ধনী হওয়ার আছে যে নিয়ম

অনেকেই বিশ্বাস করবেন না, তবে এটি সত্যি। বিত্ত অর্জনের কিছু নিয়ম আছে। আর এসব নিয়ম বিজ্ঞানের নিয়মের মতোই- বিজ্ঞানের বীজগণিত কিংবা পাটিগণিতের মতোই এসব সত্য। কিছু নিয়ম আছে যা সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন; একবার এসব নিয়ম আয়ত্বে আনতে পারলে এবং সেসবকে বাস্তবে রূপ দিতে পারলে গাণিতিক নিয়মের মতোই এগুলি কাজ করবে।
আপনার হাতে টাকা আছে কিংবা কোনো সম্পদ আছে বিশেষভাবে কোনো কাজ করার জন্য; যে এই বিশেষ নিয়ম মেনে কাজ করে – জেনে কিংবা না জেনে – সেই সম্পদের মালিক হয়। আর যারা এই নিয়মের বাইরে অন্যভাবে কাজ করে – তাদের কাছে সম্পদ আসে না – তারা যত কঠোর পরিশ্রমই করুক না কেন, আর যদি সক্ষমই হোক না কেন, দারিদ্রের মধ্যেই তাদের বাস করতে হয়।
এটি প্রাকৃতিক নিয়ম, কার্যকারণ সূত্রের মতোই। তাই যে কোনো নারী কিংবা পুরুষ এটি জানলে এবং জীবনে প্রয়োগ করলে ধনী হতে পারবে।
উপরের বাক্যগুলি যে সত্য তা বুঝতে পারবেন নিচের তথ্য দিয়ে:
পরিবেশের কারণে কেউ ধনী কিংবা গরিব হয় না, যদি তাই হতো তাহলে একইসাথে ধনী আর দরিদ্র বাস করতো না। আপনার পাড়ার দিকেই তাকান, সেখানে ধনীও আছে দরিদ্রও আছে। আপনার প্রতিবেশী যেভাবে আছেন আপনি হয়ত সেভাবে নেই। আপনার দুজনেইতো একই পরিবেশে বাস করছেন। তাহলে ধন-সম্পদের এই পার্থক্য কেন? যদি পরিবেশের কারণেই মানুষ ধনী হতো তাহলে কোনো শহরে সবাই ধনী হতো, কিংবা হোত দরিদ্র। কোনো এক দেশের সবাই হতো ধনী, আরেক দেশের সবাই দরিদ্র।
কিন্তু বাস্তবে আমরা কী দেখতে পাই? ধনী ও দরিদ্র পাশাপাশি বাস করছে, যদি তাদের চারপাশের পরিবেশ একই, এমনকি তারা হয়ত একই কাজ করছে। দুজন মানুষ একই এলাকায় বাস করে, একই কাজ করে – তবু একজন ধনী হয়, আরেকজন গরিব। এথেকে বোঝা যায় যে ধনী-গরিব হওয়া মূলত পরিবেশের উপর নির্ভরশীল নয়। তবে কোনো কোনো পরিবেশ ধনী হওয়ার পক্ষে অনেক সহায়ক হতে পারে, আবার কোনোটি হয়ত ততটা না। দুই ব্যক্তি একই পরিবেশে থেকে একই কাজ করে যখন একজন সফল হয় এবং আরেকজন ব্যর্থ, তখন আমরা এই সিদ্ধান্তেই আসতে পারি যে বিত্তবান হওয়ার কারণ হলো কোনো কাজ বিশেষভাবে করা। যে সফল সে নিশ্চয় কাজটি ভিন্নভাবে করেছে – যা ব্যর্থ ব্যক্তি করেনি।
আবার বিশেষভাবে কাজ করার জন্য আপনাকে অত্যন্ত প্রতিভাবান হতে হবে তাও না। আপনার চারপাশে তাকান, তাহলেই এর প্রমাণ পাবেন। এমন লোক দেখতে পাবেন যাদের মেধা আপনার চেয়ে হয়ত খুব বেশি উন্নতমানের নয়। বরং খারাপই বলা চলে। লেখাপড়াও হয়ত নেই। কিন্তু সে আপনার চেয়ে অনেক বিত্তবান হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে। অনেক প্রতিভাবান ব্যক্তি সারা জীবন দরিদ্র হিসেবেই থাকে, আবার সামান্য প্রতিভা নিয়ে কেউ কেউ সাফল্যের শিখরে ওঠে। বিল গেটস হার্ভার্ডের লেখাপড়া শেষ করেন নি। তারপরও তিনি পৃথিবীর অন্যতম ধনী। এমনি আরো অনেকের উদাহরণ টানা যেতে পারে। টমাস আলভা এডিসন লেখাপড়া শেষ না করেও এক শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবক।
সফল ব্যক্তিদের জীবন পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাবো যে তারা আসলে খুবই সাধারণমানের প্রতিভা বা মেধার অধিকারী। অন্যদের তুলনায় তাদের মেধা কিংবা প্রতিভা খুব বেশি নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই কম। এটি থেকে বোঝা যায় যে তাদের ধনী হওয়ার কারণ অন্যদের তুলনায় বেশি প্রতিভা কিংবা সক্ষমতা নয়, বরং তারা বিশেষভাবে কাজটি করেছেন বলেই সফল হয়েছেন।
সঞ্চয় করা কিংবা কার্পণ্য ধনী হওয়ার কারণ নয়; অনেক কৃপণ লোকই দরিদ্র, আর অনেকে দুহাতে খরচ করেও ধনী।
অন্যরা করতে ব্যর্থ হয় এমন কাজ করার ফলেই যে কেউ ধনী হয় তা নয়; দুজন লোক একই ব্যবসা করেও একই কাজ করেও একজন ধনী হয়, আরেকজন হতে পারে না।
এসব থেকে আমার সিদ্ধান্তে আসতে পারি যে ধনী হওয়ার কারণ বিশেষভাবে কোনো কাজ করা।
আর বিশেষভাবে কোনো কাজ করেই যদি সম্পদ অর্জন করা যায়, এবং সেই পদ্ধতি সবসময় একই ফল দেয় তাহলে যে কেউ সেই পদ্ধতি শিখে এবং প্রয়োগ করে ধনী হতে পারে। আর এটি করতে পারলে সেটি বিজ্ঞানের নিয়মের মতোই মোক্ষম হিসেবে প্রমাণিত হবে।
এখন কেউ কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন কাজ করার এই বিশেষ পদ্ধতি নিশ্চয় কঠিন কিছু, আর তাই কেবল অল্প কিছু সংখ্যক লোক এটি করতে পারে। এটি সত্য নয়, আমরা একটু আগেই বলেছি সাধারণ মানের লোকও এটি করতে পারে। প্রতিভাবানরা ধন হয়, নির্বোধেরা ধনী হয়; বুদ্ধিমানরা ধনি হয়, গোবরগণেশরাও ধনী হয়; বলবান লোক ধনী হয়, দুর্বল লোকও ধনী হয়।
কেউ যদি স্বাভাবিক চিন্তা করতে পারে, একটির সাথে আরেকটির সম্পর্ক বুঝতে পারে – আর স্রষ্টা প্রদত্ত তার স্বাভাবিক ক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারে তাহলেই ধনী হতে পারে, এই বিশেষ পদ্ধতি প্রয়োগ করে।
আমরা এটিও দেখেছি যে ধনী হওয়ার জন্য পরিবেশের উপর নির্ভর করতে হয় না। একই পরিবেশে থেকে কেউ ধনী হতে পারে, কেউ গরিব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্থান কিছু প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সেটিই শেষ কথা হয়। কেউ হয়ত ভাবতে পারে আমেরিকায় গেলে সে ধনী হতে পারবে। কিন্তু বাংলাদেশে থেকে কি কেউ ধনার্জন করে নি? বাংলাদেশে যারা বাস করছে তাদের জীবনের প্রয়োজন মেটাতে সবাইকে কি বিদেশে পাড়ি জমাতে হচ্ছে? স্থান সম্পর্কে খুব স্বাভাবিক চিন্তা থাকলেই হলো; স্থান-কাল-পাত্রের জ্ঞান থাকলেই হবে। কেউ যদি সাহারা মরুভূমির মধ্যে গিয়ে বিশাল ব্যবসা ফাঁদার চেষ্টা করে তবে তাতে সে সফল হতে নাও পারে। কারণ এতে স্থান-কাল-পাত্রের চিন্তা সে মাথায় আনেনি। ধনী হতে চাইলে মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখতে হবে, মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে, কোন স্থানে এই সম্পর্ক গড়বেন সেটিও ভাবতে হবে; আর আপনার আচরণ সেসব মানুষের পছন্দ হলে সেটি হবে আপনার সাফল্যের গোড়াপত্তন। আর মানুষের সাথে এই সম্পর্ককে আপনি কেবল পরিবেশের প্রভাব বলতে পারবেন না, এটি যতটা না পরিবেশের প্রভাব – তার চেয়ে অনেক বেশি নিজের বিশেষ দক্ষতার বিকাশ।
আবার কোনো বিশেষ ব্যবসা কিংবা পেশার কারণেই কেউ ধনী হতে পারে না। প্রতিটি ব্যবসায় মানুষ ধনী হতে পারে, প্রতিটি পেশার মানুষ ধনী হয়। আবার তার পাশের প্রতিবেশি একই পেশায় থেকেও দরিদ্র থেকে যায়।
তবে এটি সত্য যে আপনি যে ব্যবসা পছন্দ করেন সেটিতে আপনি ভাল করবেন, আপনি যে কাজ পছন্দ করেন সেটিতে আপনার সাফল্য সহজে আসবেন। কারণ তখন আপনি সেটি করবেন অন্তর্তাগিদে, তখন সেটি করার জন্য আপনাকে আর উৎসাহ যোগাতে হবে না। আপনার যদি বিশেষ কোনো প্রতিভা থাকে তাহলে সেসব প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে কোনো ব্যবসা গড়তে পারেন কিংবা সেই প্রতিভার উপর ভিত্তি করে কোনো পেশা বেছে নিতে পারেন। আপনি সেই ব্যবসায় সবচেয়ে ভাল করবেন যেখানে আপনার এই প্রতিভাকে কাজে লাগানো হবে সবচেয়ে বেশি।
আবার আপনি সেই ব্যবসায় ভাল করবেন যা আপনার এলাকার প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কারণ এরকম ব্যবসা গড়ে তুললে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়তে আপনার কোনো বেগ পেতে হবে হবে, মানুষ নিজেই এসে আপনার সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলবে। আপনি যদি কোনো শীতের এলাকায় আইসক্রিমের দোকান দেন তাহলে ক্রেতাকে আনতে যে বেগ পেতে হবে, গরমের দেশে তা করতে হবে না।
তবে এসব সাধারণ সীমাবদ্ধতা ছাড়া কোনো পেশা আপনার ধনী হওয়ার পথে বাধা নয়। আপনি যদি আপনার প্রতিভাকে আপনার পেশায় প্রয়োগ করেন তাহলে এবং সেটি সাফল্যের এই বিশেষ নিয়মে করেন তাহলে ধন অর্জন করা কঠিন হবে না। আপনি যদি এ মুহূর্তে কোনো ব্যবসা করেন এবং আপনার মহল্লার আরেকজনও সেই ব্যবসা করে – এবং যদি দেখতে পান অন্যজন সেখান থেকে উপার্জন করছে কিন্তু আপনি পারছেন না, তাহলে ধরে নিন যে সে যেভাবে কাজটি করছে আপনি ঠিক সেভাবে করছেন না।
পুঁজির অভাবে কেউ ধনী হতে পারে না তাও ঠিক নয়। সত্য যে আপনি বেশি পুঁজি পেলে সহজে বেশি মুনাফা করতে পারবেন, তবে যার হাতে বেশি পুঁজি আছে সে তো ধনীই – তাকে আরো বেশি ধনার্জন করার জন্য বেশি চিন্তা করতে হয় না। আপনি যত গরিবই হোন না কেন, আপনি যদি বিশেষ নিয়মে ধনার্জন করার চেষ্টা করেন তাহলে সফল হবেন; আর তখনই আপনার হাতে পুঁজি আসবে। পুঁজি হাতে পাওয়া আসলে ধনী হওয়ার ফল; আপনার হাতে পুঁজি আসা মানে আপনি ধনী হতে চলেছেন। আর এটি বিশেষভাবে কাজ করারই ফল। আপনি কোনো মহাদেশের মধ্যে দরিদ্রতম ব্যক্তি হতে পারেন, ঋণে জর্জরিত হতে পারেন; আপনার হয়ত কোনো বন্ধু নেই, প্রভাব নেই, সম্পদ নেই; কিন্তু আপনি যদি এই বিশেষ নিয়মে কাজ শুরু করেন তাহলে অবশ্যই সম্পদ আহরণ করতে পারবেন, কারণ একই কাজ একই ফল দেবে, সর্বত্র, সবার জন্য। আপনার পুঁজি না থাকলে, পুঁজি হবে; ভুল ব্যবসায় থাকলে, ভাল ব্যবসায় আসবেন; ভুল স্থানে থাকলে, সঠিক স্থানে আসতে পারবেন যদি আপনি এই বিশেষ নিয়ম মেনে সাফল্যের পথে যাত্রা শুরু করেন।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s