কাঠমান্ডুতে যেসব বই কিনেছি

গতমাসে অফিসের কাজে কাঠমান্ডু গিয়েছিলাম। ইউনিসেফ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিতে। থেকেছি এক সপ্তাহ। এক সপ্তাহ লম্বা সময় হলেও কীভাবে যে পেরিয়ে গেছে বুঝতে পারিন। সকাল আটটা থেকে সেমিনার শুরু, শেষ হতে হতে বিকেল পাঁচটা। তারপর হোটেলে ফিরে একটু বিরাম নিয়ে বেরিয়ে শহরে যাই। যেতে যাওয়ার পরই দোকান পাট বন্ধ হওয়ার পালা।
কাঠমান্ডু এই প্রথম গেলাম। ছিলাম হোটেল র‌্যাডিসনে। সেমিনারে যোগ দেয়া প্রায় সকলেই ছিল এখানে। বাংলাদেশ আমরা সাতজনের মতো, এর মধ্যে দুজন ইউনিসেফের আর তিনজন সরকারী কর্মকর্তা। বাংলাদেশীদের অনেকেই শপিঙে ব্যস্ত। আমার ঝোঁক বইয়ের প্রতি। তাই যেটুকু সময় পেয়েছি বইয়ের খোঁজে কেটেছে। কাটমান্ডুর থামেল এলাকা ট্যুরিস্ট এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেখানেই পেলাম কয়েকটি বইয়ের দোকান। এর মধ্যা হিমালয়ান বুকস বেশ ভাল লেগেছে।
কয়েকটি বই খুঁজছিলাম বেশ কিছুদিন যাবৎ। কিছুদিন থেকেই দীপক চোপড়া'র প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছিলাম। আমার এক সহকর্মী লন্ডন গেলে তাঁকে আনতে বলেছিলাম দীপক চোপড়ার বই। ইন্টারনেটে কিছু লেখা পেয়েছি। ঢাকার কয়েকটি দোকানে খুঁজে পাইনি। কাঠমান্ডুতে গিয়ে যেন স্বর্গ খুঁজে পেলাম। দীপক চোপড়া'র অনেক বইই পেলাম সেখানে। এখান থেকে নিলাম নিচের বইগুলি:
১. How to Know God – The Soul's Journey into the Mystery of Mysteries – বইটি ধর্মের নূতনতর ব্যাখ্যা হাজির করবে আপনার সামনে। স্রষ্টাকে যারা এক মহাশক্তি হিসেবে দেখেন তাদের একেকজন একেকভাবে উপলদ্ধি করে তাঁকে। স্রষ্টার বিভিন্ন রূপ সম্পর্কে জানতে পারবেন এখানে। আমরা মনে হয় যারা নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাস করেন তারাও এর কোনো না কোনোভাবে স্রষ্টাকে উপলব্ধি করেছেন, যদিও স্বীকার করেন না।
২. Freedom এই বইটি হলো যেকোনো প্রকার আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় জানার জন্য। যারা নেশায় আসক্ত তাদের জন্য এটি কার্যকর হতে পারে। যারা অন্যরকম আসক্তিতে আছেন তাদের জন্যও। আমার মতে যেকোনো আসক্তিই ক্ষতিকর, এমনকি মাত্রাতিরিক্ত জ্ঞানানুসন্ধান। বিভিন্ন আসক্তি থেকে মুক্তির জন্য একটি পুরো কোর্স পরিচালনা করে থাকে চোপড়া সেন্টার ফর ওয়েলবিয়িং। সেই পরীক্ষিত পদ্ধতিই বর্ণিত হয়েছে এই বইয়ে। এই পদ্ধতির মূল হলো মেডিটেশন বা ধ্যান।
৩. Ageless Body, Timeless Mind – এরকম বই আমি আগে কখনো পাঠ করিনি। বইটি পড়ে উপলব্ধি করবেন সুন্দর সুস্থ্য দীর্ঘ জীকনের জন্য  নিজের জীবনাচরণকে বদলানোর বিকল্প নেই।
৪. The Seven Spiritual Laws of Yoga.  যারা যোগ সাধনা করেন তাদের জানা উচিত যে মনের ব্যাপার, যতটা না শরীরের। যোগ সাধনার মাধ্যমে আরোগ্য লাভ, সাফল্য এবং প্রশান্তির জন্য সাতটি আধ্যাত্মিক নীতি মানতেই হবে। এই সাতটি নীতি হলো:

  • Law of Pure Potentiality
  • Law of Giving and Receiving
  • Law of Karma (or Cause and effect)
  • Law of Least effort,
  • Law of intention and desire
  • Law of Detachment
  • Law of Dharma (or purpose in life)

দীপক চোপড়া'র এসব বই এখনও সব পড়ে উঠতে পারিনি। তবে দীপক চোপড়া মেডিটেশনের কথা বলেন। মেডিটেশনের মাধ্যমে সুস্বাস্থ্য, প্রশান্তি ও সাফল্য লাভ সম্ভব তিনি তা দেখিয়েছেন। সেই একই কথা বলছেন দালাই লামা। তাঁর কোনো কই আগে পড়িনি। এবার নেপালে গিয়ে অনেকগুলি হাতের কাছে পেয়ে গেলাম। এখন আমার সংগ্রহে আছে:

  1. The Art of Happiness
  2. How to See yourself as you really are (A practical guide to self knowledge)
  3. The Power of Compassion
  4. Becoming enlightened

দীপক চোপড়া ও দালাই লামা ছাড়া কিনেছি মহাত্মা গান্ধীর আত্মজীবনী, The Story of My Experiments with Truth, Edward de Bono রচিত The Free Mind – A Lateral Thinking Approach, এবং নেপোলিয়ন হিল রচিত Keys to Success। সব বই এখনো পড়ে উঠা হয়নি। শীঘ্রই পড়ারা চেষ্টা করছি।
 

Posted via email from Suhreed Sarkar | the philosopher

2 thoughts on “কাঠমান্ডুতে যেসব বই কিনেছি

    • বিষয়বস্তু খুবই ভারিক্কি: Evidence in Education Policy Planning and Advocacy. শিরোনাম দেখে ভেবেছিলাম সেখানে জানব কীভাবে শিক্ষা পরিকল্পনা তৈরিতে এভিডেন্সের বা পূর্বাভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হয়। কিন্তু একেক গুরু এসে একেক কথা বলে গেলেন যেগুলির মধ্যে অনেক গরমিল আছে। এটি হতে পারে সবাইকে একই টেবিলে নিয়ে আলোচনা করা হয় নি, কেউ এসে হাতির শূড়, কেউ পা, আর কেউ কান নিয়ে আলোচনা করা চলে গেছে!

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s