ধনী হওয়ার প্রথম নীতি

beautimous

Image by baronsquirrel, dad-in-training via Flickr

শক্তি থেকে সৃষ্টি হয় বস্তুর, কিন্তু এটি তৈরির জন্য কাজ করে চিন্তা। চিন্তা হলো একমাত্র শক্তি যা আদি শক্তি থেকে কোনো বস্তু তৈরি করতে পারে। এই আদি শক্তি – যা থেকে তৈরি হয় আর সব বস্তু – নিজেই চিন্তা করতে পারে, আর শক্তি যে আকারের কথা চিন্তা করে তাই তৈরি হয়।

আদি শক্তি এর চিন্তা অনুসারে অগ্রসর হয়; এ বিশ্বে যত আকার ও প্রক্রিয়া দেখেন তার সবই এই আদি শক্তির চিন্তার দৃশ্যমান রূপ। এই নিরাকার শক্তি যে আকারের কথা চিন্তা করে সেটি সেই আকার লাভ করে, এটি যে গতির কথা চিন্তা করে সেই গতি লাভ করে। এভাবেই সকল বস্তুর সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এক চিন্তার জগতে বাস করি, যা এক চিন্তার মহাবিশ্বের অংশ। চলমান মহাবিশ্ব এই আদি শক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত, এবং এভাবেই জন্ম হয়েছে এই মহাবিশ্বের গ্রহ নক্ষত্রের। একটি ধীরে গড়ে ওঠা গাছের কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। এটির চিন্তার সাথে সাথে বেড়ে ওঠে, গড়ে ওঠে গাছ। এর জন্য কয়েক শতাব্দী লেগে যেতে পারে।

আদি শক্তির মাঝে যেকোনো আকারের চিন্তা আসলে সেই আকার তৈরি হয়, এবং সেটি গড়ে ওঠে ইতোমধ্যে নেয়া কাজের মাধ্যমে।

ধরা যাক আমরা কোনো বাসা তৈরি করতে চাচ্ছি। আদি শক্তিতে যদি আমরা এই চিন্তা প্রবাহিত করতে পারি তাহলে সাথে সাথে হয়ত সেই বাড়িটি তৈরি হবে না। তবে সেই চিন্তা তখন বাড়ি তৈরির অন্যান্য চ্যানেলে প্রবাহিত হবে,যেমন যারা বাড়ি তৈরি করে – যারা বাড়ি তৈরির মাল সরবরাহ করে তাদের মধ্যে সেই বাড়িটি তৈরির চিন্তা প্রবাহিত হবে। তারাই আপনার সেই চিন্তাকে নিয়ে বাস্তবে রূপ দেবে।

আকারের কোনো চিন্তা আদি শক্তির উপর আরোপ করা যাবে না যতক্ষণ না আগে চিন্তার মাঝে সেই আকার তৈরি করা হচ্ছে।

তার মানে আপনি যদি বাড়ির চিন্তা কখনই না করেন তাহলে আদি শক্তি সেই বাড়ি কখনই তৈরি করতে পারবে না। আপনার মনের মধ্যে আগে সেই বাড়ির একটি আকার কল্পনা করতে হবে, তবেই সব শক্তি মিলে সেই আকারের রূপ দেয়া সম্ভব হবে।

মানুষ হলো চিন্তার কেন্দ্র, এবং মানুষই চিন্তার শুরু করতে পারে। মানুষ যত আকারকে রূপ দেয় তার সবকিছুকে প্রথমে তার চিন্তায় আসতে হবে। কোনো আকার মানুষ চিন্তা না করলে সেটি বাস্তবে রূপ নিতে পারে না কখনই। আপনি যদি কখনও কোনো গাড়ির আকার সম্পর্কে না ভাবেন তাহলে সেই গাড়ি আপনি কখনই তৈরি করতে পারবেন না। যদিও আপনার হাত গাড়ি তৈরি করবে, তবে হাতকে এই কাজ করতে হলে আগে আপনার চিন্তায় সেই আকারটি প্রতিফলিত হতে হবে। লেখক যখন বই লিখে তখন তার লক্ষ্যই থাকে বই লেখা, বইয়ের আকার কেমন হবে সেটিও সে জানে, এবং জানে সেই বইয়ের এক বা একাধিক পাঠক থাকবে। তবে মানুষ যা চিন্তা করে সেটি রূপ দেয়ার জন্য সেই আদি শক্তিকে প্রভাবিত করা যেতে পারে। আমি যখন বই লিখতে চাই, তখন সেই বইকে রূপ দেয়ার জন্য আদি শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারি।

মানুষ যখন কোনো আকারের চিন্তা করে তখন বাস্তবের কোনো আকার দেখেই সে নূতন আকারের চিন্তা করে, বাস্তবের বস্তু দেখেই তার মনে আকারের চিন্তার উদ্রেক হয়। মানুষ এ পর্যন্ত খুব সামান্যই নিরাকার শক্তির সহযোগিতায় নূতন কিছু তৈরির চেষ্টা করেছে, যে নিরাকার শক্তি আসলে সকল সৃষ্টির জনক। মানুষ কখনও চিন্তাই করেনি যে সে সৃষ্টির জনককে দেখে সেভাবে তার সাথে মিলে কিছু সৃষ্টি করতে পারে। মানুষ বিদ্যমান আকারকেই পরিবর্তন করে থাকে তার পরিশ্রম দিয়ে; নিরাকার শক্তির সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কোনো সাকার বস্তু তৈরি করতে পারে কি না সে সম্পর্কে মানুষ চিন্তা করেনি। আমরা বলতে চাই যে সে আসলে এরকম নূতন সৃষ্টি করে পারে; প্রমাণ করতে চাই যে যেকোনো নারী কিংবা পুরুষ এমনটি করতে পারে, কীভাবে পারে তাও দেখাতে চাই। এর প্রথম ধাপ হিসেবে, আমাদের অবশ্যই তিনটি প্রাথমিক প্রস্তাবনা থাকবে।

প্রথমত, বলতে চাই যে, একটি নিরাকার শক্তি রয়েছে যা থেকে সকল বস্তুর উদ্ভব হয়। সব বস্তুকে ভিন্ন ভিন্ন মনে হলেও তা আসলে একই শক্তির বিভিন্ন রূপ। এবং এই শক্তি যা চিন্তা করে তাই বাস্তবে রূপ নেয়। মানুষও চিন্তার কেন্দ্র, মৌলিক চিন্তা করতে সমর্থ; মানুষ যদি আদি শক্তির সাথে তার চিন্তাকে বিনিময় করতে পারে তাহলে সেও আদি শক্তির মাধ্যমে তার কাঙ্ক্ষিত আকার তৈরি করতে পারে। এটিকে সংক্ষেপে বলা যেতে পারে:

একটি আদি শক্তি রয়েছে যা চিন্তা করতে পারে এবং এই আদি শক্তি থেকেই সবকিছুর উদ্ভব, এটি এর আদি অবস্থায় এ বিশ্বজগতের সকল স্থান পূর্ণ করে রাখে।

এই শক্তির মাঝের কোনো চিন্তাই বস্তুর তৈরি করে,এই শক্তি যা চিন্তা করে সে অনুসারেই বস্তু আকার লাভ করে।

মানুষ তার চিন্তায় কোনো বস্তুর আকার দিতে পারে,এবং এই আকার আদি নিরাকার শক্তিকে জানানোর মাধ্যমে তার চিন্তার বস্তু তৈরি করতে পারে।

অনেকে হয়ত জানতে চাইবেন এটি আমি প্রমাণ করতে পারি কি না; এবং বিস্তারিত কিছু না বলেই আমি বলতে চাই যে হ্যাঁ এটি প্রমাণ করতে পারি, যুক্তি এবং অভিজ্ঞতা উভয়ের মাধ্যমেই।

আকার ও চিন্তার সম্পর্ক থেকে যুক্তি দিয়ে আমি একটি আদি শক্তির সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি; এবং এই আদি শক্তির ধারণা থেকে যুক্তির মাধ্যমে আরো সামনে এগিয়ে এসে পেলাম যে মানুষ চিন্তা করতে পারে এবং এই চিন্তার মাধ্যমে সেও কিছু তৈরি করতে পারে।

এবং পরীক্ষণের মাধ্যমে এই যুক্তিকে সত্য বলে পাই; আর এটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আমার এই বই পড়ে এখানে নির্দেশিত উপায় অবলম্বন করে একজনও যদি ধনী হয় তাহলে সেটিই আমার দাবি প্রমাণে যথেষ্ঠ; যদি এই বই পাঠে সবাই ধনী হয় তাহলে সেটি একটি ভাল প্রমাণ তবে কেউ যদি এটি পাঠ করার পর সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরও ব্যর্থ হয় তাহলে সেটি চিন্তার বিষয়। তখন সন্দেহ জাগবে ওই ব্যক্তি সঠিকভাবে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছে কি না। আর যদি সবাই ব্যর্থ হয় তবেই কেবল প্রমাণিত হবে যে এই প্রক্রিয়াটিই ভুল। এভাবে যদি দেখা যায় তাহলে এই প্রক্রিয়া কখনই ব্যর্থ প্রমাণিত হবে না; কারণ যে কেউ এ পুস্তকে নির্দেশিত পদ্ধতি প্রয়োগ করে সফল হবেন।

আমি বলেছি যে মানুষ বিশেষ উপায়ে কোনো কাজ করে ধনী হয়; এবং সেই বিশেষ উপায়ে কাজ করার জন্য মানুষকে বিশেষভাবে চিন্তা করতে হবে:

মানুষ কীভাবে কাজ করছে তা আসলে সে কীভাবে চিন্তা করছে তারই প্রতিফলন।

আপনি কোনো কাজ কোনো বিশেষ উপায়ে করতে চাইলে সেই বিশেষ উপায়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে আগে; কোনো চিন্তা আপনি যেভাবে করতে চান সেভাবেই করতে পারাটা একটি বিশেষ দক্ষতা। যেমন অনেকেই আশাব্যঞ্জক চিন্তার কথা বলেন, কিন্তু বাস্তবে সেভাবে চিন্তা করতে পারেন না; হতাশা প্রায়ই তাদের চিন্তাকে দখল করে ফেলে, অযাচিতভাবে। আপনি যেভাবে চিন্তা করতে চান সেভাবে চিন্তা করতে পারাটা হবে ধনী হওয়ার প্রথম ধাপ:

আপনি যা চিন্তা করবেন সে সম্পর্কে চিন্তা করাটা হলো সত্য চিন্তা করা, তার অবয়ব যাই হোক না কেন।

প্রতিটি মানুষের স্বাভাবিক ক্ষমতা হলো সে যা চিন্তা করতে চায় তা সে চিন্তা করতে পারে; তবে সে চিন্তা যদি কোনো অবয়ব না দেখে হয় বা কোনো বস্তু সম্পর্কে হয় যার অস্তিত্ত্ব তখনও নেই তাহলে অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কোনো অবয়ব দেখে সেটি সম্পর্কে চিন্তা করা অনেক সহজ; কোনো অবয়ব ছাড়া সত্য সম্পর্কে চিন্তা করা কঠিন, অন্য কাজের তুলনায় এতে শক্তি খরচ হয় বেশি। যেমন ধরা যাক, কেউ নোবেল পুরস্কার পাওয়ার কথা চিন্তা করতে চায়। কয়েকবছর আগেও এটি চিন্তা করা কঠিন ছিল। এখন তার পক্ষে এটি চিন্তা করা অনেক সহজ হবে, কারণ এখন সে তার চোখের সামনেই একজন নোবেল বিজয়ীকে দেখতে পাচ্ছেন। ড. মুহম্মদ ইউনুস একজন নোবেল বিজয়ী, তিনি বাংলাদেশী, বাঙালী, তিনি আমাদের মতোই বাংলা ভাষায় কথা বলেন – এই উদাহরণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে একজন বাঙালিকে নোবেল পুরস্কার লাভের জন্য অনুপ্রাণিত করতে পারে।

ক্রমাগত ও পরষ্পরসম্পর্কিত চিন্তা করা সত্যই কঠিন, এর চেয়ে কঠিন কোনো কাজ নেই। আর তাই বেশিরভাগ লোক এধরনের চিন্তা থেকে পিছিয়ে আসে। এটি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়ায় যখন কোনো অবয়ব ছাড়াই কোনো বস্তুকে সত্য বলে চিন্তা করতে বলা হয়। আর অবয়বের বিপরীতে কোনো কিছু চিন্তা করা আরো কঠিন। অবয়বের বিরূদ্ধে চিন্তা করা কঠিন বলেই অনেক ধর্মেই দেবদেবী মূর্তি বানিয়ে পূজা করা হয়। কারণ সেসব দেবদেবীর কল্পনা করে তাদের পূজা করা অনেক কঠিন, তার পরিবর্তে তাদের আকার দিয়ে সামনে হাজির করা হলে তাঁদের ভক্তি করা অনেক সহজ হয়ে যায়।

দৃশ্যমান কিছুর অস্তিত্ত্ব আমাদের মনে একটি সমরূপ আকার তৈরি করে, আর সেই আকারই আমরা দেখে থাকি; এটি আমরা প্রতিহত করতে পারি যদি এই অবয়বকে উপেক্ষা করে সত্য সম্পর্কে চিন্তা করতে পারি।

কোনো রোগ দেখলে সেটি আপনার মনে রোগের আকার তৈরি করবে, এবং এই আকার আপনার শরীরকে রোগাক্রান্ত করে তুলবে, যদি না আপনি সত্য চিত্রটি মনে গাঁথতে পারেন, সত্য হলো এই যে আসলে কোনো রোগ নেই; এটি দেখা যাচ্ছে বটে কিন্তু বাস্তবতা হলো সুস্বাস্থ্য।

দারিদ্রের দৃশ্য থেকে আপনার মনে দারিদ্রের ছবি গেঁথে যেতে পারে, যদি না আপনি সত্য কথাটি বোঝাতে পারেন যে দারিদ্র বলে কিছু নেই; যা আছে তাহলো প্রাচুর্য।

আপনার চারপাশে রোগবালাই আর আপনি চিন্তা করবেন সুস্বাস্থ্য, আপনার চারপাশে দারিদ্র আর আপনি চিন্তা করবেন প্রাচুর্যের – এ দু’টিই বেশ কঠিন; তবে কেউ এটি করার ক্ষমতা অর্জন করলে সে হয়ে দাঁড়ায় মাস্টার মাইন্ড। সে তখন ভাগ্যকে জয় করতে পারে; যা চায় তাই পেতে পারে।

এই ক্ষমতা পাওয়া যাবে যখন আপনি সকল দৃশ্যমানতার জন্য মৌলিক তথ্য জানবেন; আর এই মৌলিক তথ্য হলো এই যে একটি নিরাকার শক্তি আছে যা থেকে এবং যার মাধ্যমে সকল বস্তু তৈরি হয়

এরপর আমাদের বুঝতে হবে যে এই শক্তির মাঝে যে চিন্তার উদ্রেক হয় তাই বাস্তব আকার ধারণ করে, আর মানুষ তার চিন্তার দ্বারা কোনো বস্তুর আবির্ভাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

এটি উপলব্ধি করতে পারলে আমাদের সকল সংশয় ও ভয় হারিয়ে যায়, কারণ আমরা জানি যে আমরা নিজেরাই আমাদের প্রয়োজন মেটাতে পারি; আমরা যা চাই তা তৈরি করতে পারি; আমরা যা চাই তাই পাই, যা হতে চাই তাই হতে পারি। ধনী হওয়ার জন্য প্রথম ধাপ হিসেবে আপনাকে অবশ্যই একটু আগে দেয়া তিনটি মৌলিক উক্তি বিশ্বাস করতে হবে; আবার সেগুলিকে স্মরণ করার জন্য এখন উপস্থাপন করছি:

একটি আদি শক্তি রয়েছে যা চিন্তা করতে পারে এবং এই আদি শক্তি থেকেই সবকিছুর উদ্ভব,এটি এর আদি অবস্থায় এ বিশ্বজগতের সকল স্থান পূর্ন করে রাখে।

এই শক্তির মাঝের কোনো চিন্তাই বস্তুর তৈরি করে,এই শক্তি যা চিন্তা করে সে অনুসারেই বস্তু আকার লাভ করে।

মানুষ তার চিন্তায় কোনো বস্তুর আকার দিতে পারে,এবং এই আকার আদি নিরাকার শক্তিকে জানানোর মাধ্যমে তার চিন্তার বস্তু তৈরি করতে পারে।

এই চিন্তা ছাড়া আপনাকে দুনিয়ার আর সকল ধারণা থেকে দূরে থাকতে হবে, এবং এই চিন্তা আপনার মনের মধ্যে বারবার আসা দরকার যতক্ষণ না সেটি আপনার চিন্তাগত অভ্যেসের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। এসব বাক্য বারবার পড়তে থাকুন; আপনার স্মৃতিশক্তিতে গেঁথে নিন, এবং ধ্যান করুন যতক্ষণ না আপনি যা বলছেন তা বিশ্বাস করছেন। যদি কোনো সন্দেহ এসে দানা বাঁধে তাহলে তাকে পাপ হিসেবে গণ্য করে মন থেকে সরিয়ে দিন। এর বাইরের কোনো ধারণা শেখানো হবে এমন উদ্দেশ্যে কোনো সভা হলে সেখানেও যাবেন না। এই বিশ্বাস থেকে আপনাকে সরিয়ে দিতে চায় এমন কোনো কথায় কান দেবেন না।

জিজ্ঞেস করবেন না কেন এসব সত্য, কিংবা ভাববেন না এসব কীভাবে সত্য হতে পারে; কেবল বিশ্বাস করুন এবং এসবকে সত্য বলে মানুন।

ধনী হওয়ার বিজ্ঞান শুরু হয়েছে এই ধারণার উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে। হ্যাঁ, সম্পূর্ণ বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে, আংশিক কিংবা দূর্বল বিশ্বাসে কাজ হবে না।

Zemanta helped me add links & pictures to this email. It can do it for you too.

Posted via email from Suhreed Sarkar | the philosopher

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s