তৈরি করুন তারবিহীন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক

কম্পিউটার নেটওয়ার্ক এখন আর কোনো অপরিচিত কিছু নয়। প্রায় বাসা ও অফিসেই এখন একাধিক কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ পাওয়া যাবে। সেগুলির মধ্যে তথ্য দ্রুত আদানপ্রদান করার জন্য মাঝে মধ্যেই নেটওয়ার্কের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। কেবল কম্পিউটার কিংবা ল্যাপটপ নয় এখন অনেক স্মার্টফোনও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। আপনার যদি কোনো স্মার্টফোন কিংবা ট্যাবলেট থাকে তাহলে তারবিহীন নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারেন। এই টিউটোরিয়ালে আমরা খুব সহজে বাসায় কিংবা ছোট অফিসের জন্য তারবিহীন নেটওয়ার্ক তৈরির পদ্ধতি শেখব।

>১. ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক কী?

সাধারন নেটওয়ার্কের মতোই ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বিভিন্ন কম্পিউটার নিয়ে গড়ে ওঠে। তবে আমাদের পরিচিত সাধারণ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারসমূহ যুক্ত থাকে বিভিন্ন ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে। কিন্তু ওয়্যারলেস বা তারহীন নেটওয়ার্কে কম্পিউটারসমূহকে তার দিয়ে যুক্ত করার দরকার হয়না। সাধারণ নেটওয়ার্কে তামার তার কিংবা ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহারের চেয়ে আধুনিক উপায় হলো ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং।

তারযুক্ত নেটওয়ার্কের তুলনায় তারবিহীন নেটওয়ার্কের কিছু সুবিধা ও অসুবিধা আছে। সুবিধার মধ্যে বড় হলো এই যে এখানে বিভিন্ন ধরনের তার ইনস্টল করার দরকার হয় না। অসুবিধা হলো এই যে তারবিহীন নেটওয়ার্কে রেডিও ওয়েভের interference দেখা দিতে পারে। ওয়েভ ট্রান্সমিশনে এই ব্যাঘাত ঘটতে পারে আবহাওয়া, ডিভাইস কিংবা দেয়ালের মতো কোনো বাধার কারণে।

বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উভয় স্থানেই তারবিহীন নেটওয়ার্ক বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। দিন দিন তারবিহীন নেটওয়ার্ক প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে এবং সেই সাথে এসব নেটওয়ার্কিং ডিভাইসের দামও কমে আসছে। ইতোমধ্যে তারবিহীন নেটওয়ার্কের বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ডও গৃহীত হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রিয় ওয়্যারলেস ল্যান গড়ে ওঠে IEEE 802.11 বা Wi-Fi স্ট্যান্ডার্ডের উপর ভিত্তি করে।

২. কেন ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক তৈরি করবেন?

ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক ডাটা কম্যুনিকেশনের এক সহজ উপায়। এতে বাতাসকে মিডিয়া হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ফলে একাধিক কম্পিউটারের মধ্যে ডাটা কম্যুনিকেশনের জন্য সেগুলিকে তার দিয়ে যুক্ত করতে হবে না। আগের তারযুক্ত নেটওয়ার্কের সাথেও এই তারবিহীন নেটওয়ার্ক যোগ করা যাবে। এরকম নেটওয়ার্কের ফলে মোবাইল ইউজারদের অনেক সুবিধা হবে। যেমন কোনো ইউজার ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করলে অফিসের মধ্যে যেকোনো স্থানে বসলেই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারবে। এজন্য তাকে কোনো তারের সাথে যুক্ত হতে হবে না।

<pতারবিহীন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নিচের সুবিধাগুলি পাবেন:

  1. স্থানান্তরের সুবিধা: মোবাইল ইউজাররা সহজেই নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত হতে পারে। এর ফলে তাদেরকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয় না। স্বাচ্ছন্দে নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার ফলে তাদের কর্মক্ষমতা বেড়ে যায়।

  2. সহজ ও দ্র্রুত ইনস্টলেশন: তারবিহীন নেটওয়ার্ক সহজেই ইনস্টল করা যায়। এখানে কেবল ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক এডাপ্টার ইনস্টলেশন করেই আপনি কম্পিউটারসমূহের মধ্যে নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলতে পারেন। এছাড়া একসেস পয়েন্ট কিংবা রাউটার কোনো কেন্দ্রীয় স্থানে স্থাপন করা হলেই আপনার নেটওয়ার্ক সেটআপ শেষ। ক্যাবলিঙের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।
  3. নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি: তার দিয়ে যুক্ত করা যায় না এমন স্থানেও তারবিহীন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নেটওয়ার্কিংকে বিস্তৃত করা সম্ভব হয়। যেমন কোনো ক্যাফেতে এরকম নেটওয়ার্ক সেটআপ করা থাকলে ক্রেতারা এসে তাদের ডিভাইস যুক্ত করতে পারে যেকোনো সময়। তারপর তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারে।
    অধিক নমনীয়তা: তারবিহীন নেটওয়ার্কের নমনীয়তা বেশি এবং একে সহজেই বিভিন্ন পরিবেশে ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

  4. কম মালিকানা ব্যয়: তারবিহীন নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে প্রারম্ভিক বিনিয়োগ একটু বেশি হলেও এর অন্যান্য খরচ নেই বললেই চলে। তারবিহীন নেটওয়ার্কে ক্যাবলিং ঠিক রাখার মতো কোনো সংরক্ষণ ব্যয় নেই। নূতন কোনো স্থানে নেটওয়ার্ককে নিয়ে যাওয়ার জন্যও বাড়তি কোনো ব্যয় নেই।
  5. পরিবর্ধনযোগ্যতা: তারবিহীন নেটওয়ার্ককে সহজেই পরিবর্ধন করতে পারেন। এজন্য বাড়তি কম্পিউটারসমূহে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক এডাপ্টার যোগ করা কিংবা বাড়তি ওয়্যারলেস একসেস পয়েন্ট বা রাউটার যোগ করাই যথেষ্ট। এছাড়া আপনি সহজেই ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কের কনফিগারেশন পরিবর্তন করতে পারেন। ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ককে তারযুক্ত নেটওয়ার্কের সাথেও যুক্ত করা যায়।

    তারবিহীন নেটওয়ার্কের জন্য Bluetooth এবং 802.11b ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এসব স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারকারী বিভিন্ন ডিভাইস ক্রমেই সহজলভ্য হয়ে উঠছে। এসব ডিভাইসের সহজলভ্যতার কারণে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কও ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রবণতা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক বর্তমান তারযুক্ত নেটওয়ার্কের স্থান দখল করে নেবে।

Leave a Reply

Please log in using one of these methods to post your comment:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s